রাজনীতি

১৯৪৩ জন্মেও বিদেশী তকমা পেলেন বাঙালি সুনির্মলবাবু


ওয়েব ডেস্ক ১০ই জুলাই  ২০১৯: নাগরিক পঞ্জী নিয়ে হয়রানি চলছেই আসামে । আর এতে সব থেকে বেশি যারা হয়রানি হচ্ছে তারা আসামের বাঙালি। প্রসঙ্গত  ১৯৪৩ সালে অর্থাৎ দেশ স্বাধীনের আগেই আসামে জন্মেছেন তাঁকেও কিভাবে বিদেশি বলা হচ্ছে! ঘটনার সূত্রপাত সেখানেই। ১৯৪৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আসামের শিলচর টাউনে জন্মেছিলেন সুনির্মল বাগচি নামের এক ব্যক্তি। শহরের মিউনিসিপ্যাল রেজিস্টারে সেরকমই লেখা আছে। আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তাঁকেও বিদেশি বলে চিহ্নিত করেছে।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে সুনির্মল বাগচির নাম দেখা যায়। তালিকায় নাম তোলার জন্য ৩ কোটি ২৯ লক্ষ মানুষ আবেদন করেছিলেন। নাম উঠেছিল ২ কোটি ৮৯ লক্ষের। গত ২৬ জুন জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে ১ লক্ষ ২ হাজার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। সুনির্মলবাবুর নাম তখনই বাদ পড়ে। ১ জুলাই স্থানীয় এনআরসি অফিস থেকে তাঁকে নোটিস দিয়ে জানানো হয়, কেন তাঁর নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ গিয়েছে।
সুনির্মলবাবুদের বাড়ির কাছে পঞ্চায়েত ভবনে এনআরসি-র অস্থায়ী অফিস হয়েছিল। নোটিস পাওয়ার চার দিন বাদে তিনি সেই অফিসে শুনানির জন্য যান। সংশ্লিষ্ট অফিসার তাঁকে বলেন, আপনার কাগজপত্র ঠিকই আছে। নাগরিকপঞ্জি আপডেট করার সময় আপনার বিষয়টি আমাদের লোকাল ইন চার্জের কাছে তুলব। শিলচরে এনআরসি-র নোডাল অফিসার আনিস রসুল মজুমদার বলেন, “আমাদের অফিসের কেউ ভুল করে সুনির্মলবাবুর নাম নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ দিয়েছেন।”এই বিষয়ে সুনির্মলবাবু বলেন, “অফিসাররা তো একে অন্যের ওপরে দোষ চাপিয়ে খালাস। কিন্তু বিদেশি বলে নোটিস পাওয়ার পরে আমার যা হেনস্থা হয়েছে, কেউ কি তার ক্ষতিপূরণ দেবে?” এরকম হাজার হাজার বাঙালি হয়রানি হচ্ছে এই এন আর সির চক্করে । তাদের হয়রানির জন্য কে দায়ী থাকবে ?

Related posts

Close