রাজনীতি

মমতার সভায় উলুর দিয়ে, শঙ্খ বাজিয়ে মানুষই বিজেপিকে জবাব দিল স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে


ওয়েব ডেস্ক ৮ই মে ২০১৯: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা মানেই একটা অন্য মাত্রায় সব কিছু থাকে । মানুষ স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে উলু দেন , শঙ্খ বাজান এর মধ্যে রাজনীতি নয় , হৃদয়ের টানটাই থাকে।  আর এর ওপর ভর করেই তৃণমূল অনায়াসেই লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করবে বলেই বিদ্যজ্জনেদের একাংশের ভভিষ্যৎবাণী ।  আজ বিষ্ণুপুরে এক কোথায় যে ভাবে মমতা  বন্দ্যোপাদ্যের সামনে উলুর ধ্বনি আর শঙ্খ বাজানো হলো , যেন আজই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন । প্রসঙ্গত বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বড়জোড়ায় এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মমতা বলেন। “আমরা যখন বারোয়ারি পুজোয় ক্লাবগুলোকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিলাম তখন বিজেপি কোর্টে গিয়ে সেটা বন্ধ করে দিয়েছিল।

দুর্গা পুজোর উদ্যোক্তা ৪০টা ক্লাবকে আয়করের নোটিস পাঠানো হয়েছিল। মোদী তোমার লজ্জা করে না? প্রধানমন্ত্রী বাংলায় আসার আগে একটুও হোমওয়ার্ক করেন না। উনি বলেছেন এখানে দুর্গাপুজোর অনুমতি দেওয়া হয় না। উনি মিথ্যোবাদী। এখানে আমরা দুর্গাপুজো, কালী পুজো, রাস মেলা, লক্ষ্মীপুজো, সব উৎসব করি। এরপর তিনি জনতাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনারা উৎসব করেন না?’ সমবেত উত্তর আসে ‘হ্যাঁ’।”মমতার নির্বাচনী ভাষণের অন্তর্নিহিত বক্তব্য় স্পষ্ট- বিজেপি-র হিন্দুত্বর সঙ্গে বাংলার ধর্মাচরণের কোনও মিল নেই।মমতা বলেন, “আমরা দুর্গাপুজো করি, ছট পুজো করি, হোলি, ক্রিসমাস, ইদ উদযাপন করি। আমরা কলকাতায় দুর্গাপুজো কার্নিভ্যাল করি। এটাই আমাদের কালচার। আমরা রামকৃষ্ণের দেশে বাস করি। বাংলাই হচ্ছে এমন রাজ্য যেখানে এরকম সংস্কৃতি আছে। বিজেপি সারা দেশে ভাগাভাগির রাজনীতি করছে।”
রাম ও হিন্দুত্ব নিয়েও বিজেপি-কে টার্গেট করেছেন তিনি। বলেছেন, “ভোটের সময়ে উনি (মোদী) ভগবান রামকে মনে করেন এবং অন্য সময়ে চুপচাপ থাকেন। শ্রীরামচন্দ্রকে ওঁরা নির্বাচনী এজেন্ট বানিয়েছেন। সীতা মাইয়া রামচন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করছেন, বিজেপি এখন তোমায় ডাকছে কেন? ভগবান রাম উত্তর দিচ্ছেন, ভোট এসেছে বলে।”

“আমি ওঁদের বলছি, তারাপীঠ গিয়ে দেখুন, দক্ষিণেশ্বর গিয়ে দেখুন। দয়া করে গঙ্গসাগর গিয়ে দেখুন আমরা কীরকম সৌন্দর্যায়ন করেছি। ফুরফুরা শরিফে গিয়ে দেখুন। মোদী গত পাঁচ বছরে একটা ছোট রাম মূর্তিও বানাতে পারেনি।” তাঁর কথার মধ্যেই জমায়েতের মধ্যে থেকে বেজে ওঠে উলুধ্বনি, বেজে ওঠে শাঁখ।তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “ওরা মা দুর্গার ব্যাপারে কী জানে! ওরা জানে দুর্গার কতগুলো হাত? কটা অস্ত্র থাকে সে হাতে?”

“আমি ওদের কাছ থেকে জাতীয়তাবাদ শিখব না। মনে রাখুন যখন আমরা স্বাধীন হই তখন মহাত্মা গান্ধী কলকাতায় ছিলেন। বাংলা স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্মদাত্রী। বাংলা সংস্কৃতি ও মানবতার জন্মভূমি। সবাই মোদীকে ভয় পাচ্ছে, আমি ছাড়া। আমি ওঁর বিরুদ্ধে বলব। অন্য কেউ যদি না পারে তাহলে বেড়ালের গলায় ঘণ্টা বাংলাই বাঁধবে।” এটা ঠিক এবারকার নির্বাচনে, একজন বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার একটা ভালো সুযোগ আছে । ৩৪ বছরের বাম রাজত্বে বাংলা যেভাবে শ্মশানে পরিণত হয়েছিল সেখান থেকে উন্নয়নের পথে নিয়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এবার এখান থেকে ওপরে ওঠার পালা ।

Related posts

Close